Author: Asmania

~দ্বিরঙা স্বপ্ন~ দেবত্তমা দত্ত

“ও মেয়ে তোর নাম কি?” ওকে জিজ্ঞেস করেনি কেউ কভু পরিচয় তো একটাই 36D শরীরী সুখে লাগে নাকি পরিচয়? প্রতিরাতে দশটা নখের ছিন্নভিন্ন হওয়া শরীর, গিল্টিসোনা আর সস্তা লিপিস্টিক মোরকে স্বপ্ন দেখে বিশ্বজয়ের। মদের তীব্র কটু গন্ধে রূদ্ধস্বাস; আরো একটু সহ্যের আশ্বাস, নেতিয়ে পরা তৃপ্ত শরীর এলিয়ে আসে; স্কারলেট রঙা দুনিয়াটা ম্যাজেন্ডা হয়ে ওঠে, “যাক এবারের মত ছেলেটা পরীক্ষায় বসবে।” বাস্তবতায় বুক বাঁধে আরো একটা দিন। ওদের নেই কোনো ভারমেলিয়ান স্বপ্ন, ওদের রামধনুরা দ্বিরঙা- “স্কারলেট ” এবং “ম্যাজেন্ডা”।।...

Read More

  মৃত্যু-ভ্রম  – অর্ণব মন্ডল

  ১ আজ কলেজ থেকে বেরোতে খুব দেরী হয়ে গেল অবিনাশবাবুর। এখন আবার ওকে দমদম গিয়ে কল্যানী সীমান্ত লোকাল ধরে বাড়ি ফিরতে হবে।আজ যে ঠিক কী কারনে এত দেরী হয়ে গেল অবিনাশ বাবুর সেটা ঠিক মনে করতে পারছিলেন না তিনি। কিছু খাতা দেখা বাকি ছিল বটে কিন্তু সে তো হাতে গোনা ৬ টা খাতা। তার জন্য এত দেরী হওয়ার তো কথা নয়। সবাই বলে বয়স হলে নাকি স্মৃতিশক্তি কমে যায়। কিন্তু ৪১ এমন কি বেশি বয়স যার জন্য স্মৃতিশক্তি লোপ পাবে! মনীন্দ্র কলেজ থেকে শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনটা একেবারে কাছে।স্টেশনেঢোকারসাথেসাথেইমেট্রোপেয়েযাওয়ারসময়সবেনিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন অবিনাশ চ্যাটার্জী। এমন সময় বুকের বাঁ দিকে একটা হালকা ব্যাথা টের পেলেন তিনি। রোগ জ্বালার বালাই খুব একটা নেই ওঁর। কলেজে আজ চিকেন কাটলেট খেয়েছিলেন তার থেকেই কী কিছু সমস্যা হল? এর সাথে তিনি আরও একটা বাজে ব্যাপার লক্ষ্য করলেন। তার শার্টের পকেটের কাছে একটা লাল দাগ। সম্ভবত কাটলেট খাওয়ার সময় টমেটো সস পড়েছে। এবার একটু বিরক্ত লাগল ওঁর। একে তোআজ ৯ টা বেজে গেছে কলেজ থেকে বেরোতে বেরোতে। তার মানে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে দশটা বাজবে। তার ওপর সদ্য কাচা জামায় দাগ দেখলে ওনার স্ত্রী আবার একটা গোলমাল বাধাবেন। এসব ভাবতে ভাবতেই ওনার খেয়াল হল মেট্রো বেলগাছিয়া পেরিয়ে মাটির ওপর উঠতে শুরু করেছে। দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন উনি। নেমেই দৌড়তে হবে। নাহলে ৯ টা ৫ এর ট্রেনটা পাওয়া যাবে না। এই সময় ডানদিকে চোখ পড়তেই মেয়েটাকে দেখতে পেলেন অবিনাশবাবু। আরে! এই মেয়েটাওরই ডিপার্টমেন্টেরনা! নামটা অনেক চেষ্টা...

Read More

অথ বঙ্গাব্দ কথা – জনমানস

রাত পোহালেই নতুন বছর। বাঙালির তর সইছে না। মোবাইলে ঘন ঘন বাজছে শুভ নববর্ষ। গবেষকেরা বলেন এক সময়ে আমাদের বছর শুরু হত এখন যে সময় দূর্গা পুজো হয় সেই সময়। পুজোয় নতুন জামা জুতো দেবার রেয়াজ সেই সময় থেকেই। আবার পৌষ সংক্রান্তি পেরিয়ে মাঘের শুরু তেও একসময় বছরের শুরুয়াদ হত। সব্বাইকে হটিয়ে বৈশাখের জাকপট পাবার গল্প বেশ মজাদার। বাংলা সনের প্রবক্তা শশাঙ্ক কিনা তা নিয়ে বিতর্ক বিস্তর। কিন্তু আকবরের আমলেই যে এই বঙ্গাব্দ নামক তারিখনামার সে অর্থে ব্যাটিং শুরু তা প্রায় সবাই মানেন। বাংলায় চিরকালই বছরের হিসেব হত সৌর মাসের হিসেবে। বহু আগে সৌর সিদ্ধান্ত নামক একটি গ্রন্থ ও ছিল। সম্রাট আকবরের আমল তখন। ইসলামী ক্যালেন্ডার চলে চাঁদের চাল চলন দেখে। এখন এত ভারী মুশকিল। দুই সিস্টেমের মিশেলে যা হয় সব হিসেব গুলিয়ে যেতে লাগলো। যে সে হিসেব নয় সম্রাট কে কর দেবার হিসেব। চাষবাসের সময়ের সাথে কর দেবার সময় মিলছে না। সম্রাট পড়লেন মহা ফ্যাসাদে। ভাবুন সেই কত্ত বছর আগে। রাজা ভাবলেন এত মহা মুস্কিল। কর মিলছে না। বাংলার গরিব চাষী ভাবলো এত বিপদ ভারি। সম্রাট আকবর আমির ফতেউল্লা সিরাজী কে দায়িত্ব দিলেন নতুন সন গণনার। তিনি সে সময়ের সেরা জ্যোতির্বিদদের একজন। তিনি মেলালেন , দায়িত্ব নিয়ে সব মেলালেন। পয়লা বৈশাখ আমি আপনি শখের বাঙালি সেজে প্রচুর প্রাদেশিক বুলি আওড়াতে পারি ঠিকএ। কিন্তু এই বাংলা ক্যালেন্ডার সব অর্থেই জাতীয়। আশ্চর্য এই কালেন্দারে সৌর মাস আর চন্দ্র মাস দিব্বি মিলে গেল। মিলে গেল চাষীর চাষবাসের সাথে সম্রাটের কর দানের...

Read More

রক্তাক্ত সেপ্টেম্বর কথা-জনমানস

   দেশটা তখন পরাধীন।আজ স্বাধীন দেশেও চাকরির আকাল।সে যুগে কেমন ছিল সহজেই অনুমেয়।গুটিকয়েক পাঞ্জাবী নতুন ভাগ্যের খোঁজে ঘর ছেড়েছিলেন।লক্ষ্য ছিল অন্য দেশে গিয়ে নতুন জীবনের খোঁজ।সে যাত্রার মাধ্যম ছিল একটি জাহাজ।নাম কামাগাতামারু।নাম শুনেই বোঝা যায়, জাহাজটি জাপানি জাহাজ।ভাগ্য বদলের আশায় চাকরির খোঁজে এক সময় বহু মানুষই পাড়ি জমাচ্ছিলেন উত্তর আমেরিকায়।তাদের অধিকাংশই ছিল পাঞ্জাবী।পাঞ্জাবের তৎকালীন বেহাল অর্থনৈতিক দশাকেই এর জন্য দায়ী করেন অনেকে।কানাডার সরকার এই বিষয়টিকে মোটেই ভালোভাবে নেননি।কানাডিয়ান সরকার কানাডায় ভারতীয়দের প্রবেশকে মনে করেছিলেন বাদামি আগ্রাসন।নাম থেকেই সুস্পষ্ট যে, এই ভাবনার মধ্যে ছিল বর্ণবিদ্বেষের গন্ধ।কানাডার সরকার মনে করেছিল এর ফলে ওই দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে তাদের একচেটিয়া  কমবে।তারা ব্রিটিশ কলম্বিয়ার নেতৃত্বে...

Read More

যন্ত্র রসিক-জনমানস

বঙ্গে শিল্প আনতে হন্যে সবাই।গত কয়েক দশক ভিনদেশী শিল্পাতারার খোঁজ জব্বর।আর সেই বাজারে নিখোঁজ বাংলার নিজস্ব শিল্পসম্ভার।এবার চলুন ঘুরে আসি ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে অথবা বিশ শতকের শুরুর দিকে। দেশটা পরাধীন।এমন অসময়ে শুধু নিজের দুরন্ত প্রতিভা আর উদ্যোগ দিয়েই বলে বলে কিস্তিমাত করেছেন এক বাঙালি।অধুনা বিস্মৃতপ্রায়।নাম হেমেন্দ্রমোহন বোস। জন্ম দেড়শো বছর আগে ১৮৬৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার কোনো এক গ্রামে। ছিলেন ডাক্তার।এক দুর্ঘটনায় চোখ হারিয়ে ডাক্তারি ছাড়লেন।এরপরই শুরু হলো এক সত্যিকারের রূপকথা। গন্ধে মাতোয়ারা বাঙালির প্রথম পারফিউম।ব্রিটিশ ভাবতো এদেশের লোক নেটিফ।ভারতীয় গায়ে তীব্র দুর্গন্ধ, থাকে নোংড়া জায়গায়।বোসবাবু এমন পারফিউম বানালেন এ দেশ তো বটেই সাহেব সুবোদের বউরাও বায়না ধরলো – বোসবাবুর পারফিউম চাই.এখানেই শেষ নয়। বরং শুরু।এলো কুন্তলিন নাম মাথার তেল। সে যুগেও সেই তেলের ব্র্যান্ডিং করতে বোসবাবু চালু করলেন কুন্তলিন পুরষ্কার।সাহিত্যে নবোদিতদের জন্যে।সেই পুরষ্কার পেয়েছিলেন জগদীশ বোস এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।   বাই – সাইকেল বিদেশ থেকে বই – সাইকেল আনিয়ে সেই সাইকেলের ভারতীয় মডেল বানিয়ে ফেললেন।আবার সুপারহিট।জানা যায় বই – সাইকেলে চড়ে সকালের মিঠে রোদে হেমেন্দ্রমোহনের সাথে গড়ের মাঠে হাওয়া খেতে যেতেন আচার্য প্রফুল্ল চান্দ্রা রায়, স্যার নীলরতন সরকার, জগদীশচন্দ্র বোস, এমনকি আচার্য – পত্নী অবলা বসু ও তাদের দোলে যোগ দিয়েছিলেন।গড়ের মাঠের সকালের হাওয়ায় মিশে যেত কয়েকজন বাঙালি সিংহ পুরুষের নিঃশ্বাস।   মোটর মতলব মোটর ব্যবসায় প্রথম সফল ভারতীয়।পরাধীন দেশে স্বাধীনতার আগুন জ্বালতে গেলে সে আগুন জ্বালাতে হবে মানুষের মনে। মেরুদন্ড শক্ত করতে দরকার ছিল বোসবাবুদের মতো বাঙালির।তৈরী করলেন গ্রেট ইস্টার্ন মোটর কোম্পানি।ফাটাফাটি সফল। তুখোর ব্যবসায়িক বুদ্ধি।সাহেব সুবোরা মোটেও খুশি...

Read More

ষ্টুডিও সহযোগী

ব্লগ সহযোগী

ইভেন্ট সহযোগী

Recent Posts

Free WordPress Themes, Free Android Games