ওয়ান বাই Cos-সি

রেজাল্ট আউট । মাধ্যমিক ! পুরো তিন মাসের মস্তিগিরির দি এন্ড । গঙ্গাপাড়ের শিব-কাশীর মন্দিরে সবেমাত্র “ভোলেবম্ব’’ বলে হুঁকো তে টান টা মেরেছে লোটন । হাঁপাতে হাঁপাতে লাট্টু এসে খবরটা দিল । এটা ওর থার্ড টাইম । মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো খবরই বটে । পরিমড়ি দৌড়ল ওরা । এদিকে বাড়িতে বসে আরাম করে, ঝেড়ে আনা পেয়ারা চিবুতে চিবুতে ল্যাদের চোটে আমার একটা চোখ কখন যেন বন্ধ হয়ে গেসল । হটাৎ বুম্বা খবরটা দিল । বেগতিক দেখলে শামুকও নিজের খোলার ভেতর সেঁধিয়ে যায় । আমি সোজা চিলেকোঠায় । কম্বলমুড়ি । ঘুসঘুসে জ্বর । তা পরের দিন বেরুল সেই ফল । শুরু হল আমাদের দুঃখযাত্রা । বন্ধু-বান্ধব ছিটকে গিয়ে কলা-বানিজ্যে ভর্তি হল । একা পড়ে গেলুম ল্যাব-প্রোজেক্টের গাড্ডায় । তার মধ্যে আবার কো-এড ! আমাদের সময় যেহেতু মোবাইল-টিভির বিশ্বায়ন ছিল না , তাই আজন্ম বয়েজ স্কুল লালিত আমার কাছে “ নারী ” ছিল কৌতূহলের চরম সীমা । স্কুল বেঞ্চে সদ্য কৈশর পেরনো আমি আর পাশে সদ্য স্নান সেরে স্কুলে আসা পরি’র দল । মনে আছে , প্রবল আনবিক সংঘর্ষ আর জটিল ত্রিকোণামিতির ক্লাসে সবার অলক্ষ্যে উদ্বায়ী বস্তুর মতো একটা গন্ধ পাকিয়ে পাকিয়ে উঠত । আমরা , অমনোযোগীরাই শুধু পেতাম ! অ্যানালিসিস করে দেখেছি , বায়োলজি ক্লাসে গন্ধটা তীব্রতর হয় । আর অনুভূতিটা টের পাই রাত্রে । যখন কুকুরগুলো চিল চিৎকার শুরু করে । ছোটবেলার হাবিজাবি ভাবা-ভাবি , সেই প্রথম কল্পনার রূপ নিল । যদিও তখনও জানিনা, চুমু কেমন খেতে । সোমনাথ স্যারের টিউশনে পাশাপাশি বসে হটাৎ যেদিন ওর গায়ে আমার হাত লেগে গেল , প্রথম জানলাম “শিহরন” মানে কি ! সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেসল ।

– সায়ন ভট্টাচার্য্য

রেসোনেন্স

সকাল থেকেই প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল । বুধাদিত্যর আজ বেশ দেরিই হয়ে গেছে । সকালে অ্যালার্মটা কখন যে বাজতে বাজতে চুপ করে গেছে , বুঝতেই পারেনি ও । কেন যেন বৃষ্টি হলেই ওর সব গণ্ডগোল হয়ে যায় । কোনও কারন ছাড়াই । উঠতে দেরি । অফিস পৌঁছতে দেরি । ডেস্কে বসে ভুলভাল কাজ । কখনও ঘড়ি পড়তে ভুলে যাওয়া তো কখনও মোবাইল বাড়িতে ফেলে আসা । এসব তো হয়েই থাকে । বাসস্ট্যান্ডের ছোট্ট গুমটিটাতে বসে বসে শব্দ শুনছিল বুধা । চোখ বন্ধ করে । চারপাশের শব্দ । একসঙ্গে । বাস , গাড়ি , সাইকেল চলার শব্দ । মানুষের পায়ের শব্দ । ও যতবার শোনে , আশ্চর্য হয়ে যায় । প্রত্যেকটা শব্দ আলাদা । এমনকি প্রত্যেকটা মানুষের হাঁটার ছন্দ , আলাদা । যানবাহনের প্রত্যেকটা কলকব্জার স্বকীয় শব্দ যেন অনুভব করে ও । বৃষ্টির একঘেয়ে শব্দ , একবার কমছে , একবার বাড়ছে । কেমন যেন অবশ হয়ে আসে শরীরটা । ঝোড়ো কাকের কর্কশ ডাকে ওর সম্বিৎ ফেরে । চোখ অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল । চারপাশটা কেমন অন্ধকার লাগছে । রাস্তায় জল জমতে শুরু করেছে একটু একটু । বেশ জোরে নেমেছে । এই রে ! কেজো তাগিদে ভুরু দুটো কুঁচকে আসে । অনেকক্ষণ হয়ে গেল , বাস নেই , ধুর ! বৃষ্টির ছাঁট আসছে অল্প অল্প । ঠাণ্ডা হাওয়া আলপিনের মতো গায়ে বিঁধছে সরু সরু । আলিস্যি আসে একটু একটু । বৃষ্টি ওর ভাল লাগে । এই তো সেদিনের কথা । রিলেশনটা তখনও ছিল । কলেজের করিডোরে পাশাপাশি বসে অনামিকা জিগ্যেস করেছিল । -তোর প্রিয় ঋতু কিরে ? – বর্ষা । – খুব আনকমন তো ! কেন ? বর্ষা কেন ? – তুই শেষ কবে গাছের পাতা ছুঁয়েছিস ? – মনে নেই । কেন ? – শেষ কবে তোর পায়ে ঘাস-মাটি লেগেছে ? – মনে নেই । কেন বল তো ? তোর হল কি ? – কিন্তু দেখ ! বৃষ্টির জল কিন্তু তোর গায়ে এক্ষুনি লেগেছে । প্রয়েই লাগে । গরীবের গায়ে লাগে , বড়লোকের গায়ে লাগে । সব শহুরে মানুষের গায়েই লাগে । Warmth of solitary mother nature … বেক বাগান ডালাউসি এসপ্ল্যানেড হাউরা হাউরা হাউরা … বুধাদিত্য হুরমুড়িয়ে বাসে উঠে গেল । বাসস্ট্যান্ডের বেঞ্চটা থেকে একটা বেওয়ারিশ ছাতা ঝপাস করে পেছনের জমা জলে পড়ে গিয়ে অনেক গুলো গোল গোল ঢেউ তৈরি করল । ঠিক যেন ফিজিক্স বইয়ে ছাপা শব্দের অনুরণনের ছবি …

-সায়ন ভট্টাচার্য্য

 

 

সায়ন ভট্টাচার্য্য

সায়ন ভট্টাচার্য্য

সায়ন এই সময়ের এক সোনার টুকরো ছেলে। অন্তত আসমানিয়া সম্পাদক মনে প্রাণে তা বিশ্বাস করেন। ভাবনায় , মননে , পড়াশুনোয় সেনের তুলনা সায়ন নিজেই। ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে আচমকা সাংবাদিকতায় পড়াশুনো শুরু। কলকাতার ইতিহাস নিয়ে নিবিড় চর্চা। সেই চর্চা শুধু বই পড়াতেই সীমাবদ্দ নয় , কলকাতার পথে পথে ঘুরে নিজের হাতে ইতিহাস খোঁজেন সায়ন। বর্তমানে আকাশবাণীর প্রেজেন্টার এবং ফ্রিল্যান্স লেখালিখি করেন সায়ন।
Facebook Comments