নীলাষা ব্রিজের ধারে হাওয়ায়

চুল উড়িয়ে নিত,

মাঝরাতের শহরে আমরা দুজন

পদ্যসরণী দিয়ে হাঁটতাম

বুকে থাকত গীতবিতান।

শহর যখন ক্রমশই অবাধ্য,

একরোখা

তখন নিয়ন হাসিতে আমরা

পদ্যসরণী বানাতাম।

তুমি দু আঙুলের সিগারেটে

বলতে

‘ কাদম্বরী আমাদের যখন বয়স

হবে,

দেখো শহরটা আরো একরোখা

যুবক হয়ে উঠবে’

বলতে বলতে নীল আলোগুলো

ছড়িয়ে যেত নক্ষত্র হয়ে,

সেই সীমারেখা ধরে গ্যালাক্সির

পর গ্যালাক্সি পদ্যসরণী হয়ে

উঠত।

পদ্যসরণীর কালোতে দাঁড়িয়ে

এক একটা কৃষকমৃত্যুর পর

আমরা স্লোগান লিখতাম।

স্লোগানকে সেলাম ভেবে কেউ

কেউ বুকে মেখে নিত,

সেই বুক কঙ্কাল হয়ে

শূন্যের উদযাপন…

জোঁড়াসাকোর ব্রিজ যেদিন

ভেঙে পড়ল,

মারোয়ারি সোস্যাইটির উপচে

পড়া ভীড়,

যেদিন কামদুনি- জঙ্গলমহল-

গোধরা কান্ডর পরও

আমরা আরো একটা

অমরাবতীর স্বপন দেখলাম,

সেদিন পদ্যসরণী আমাদের

আলো দিয়েছিল।

ফেরার রাস্তায় কুকুরগুলো

ঘুমিয়ে,

জেগে আছেন প্রাচীন ফিঙে…

কথার কালিতে ভরেছ যে বিষ

প্রেরণা দিয়েছ মদে

পদ্যসরণী গড়েছ এ বুকে

পুড়েছ নির্বিবাদে

পুড়ে পুড়ে ছাই বারুদবাষ্প

পুড়ে পুড়ে হবে পরী

কথায় তোমার পদ্যসরণী

তুমিই কথার কাদম্বরী…

 

ঊষসী ভট্টাচার্য

দীর্ঘদিন ধরেই লেখালিখির অভ্যেস। আসমানিয়ায় নিয়মিত লিখতেন এক সময়। এখন লেখালিখি করেন একাধিক পত্র পত্রিকায়। আসমানিয়ায় কবিতা লেখা বহুদিন পর।

Facebook Comments