এক সন্ধ্যা, যার উদ্দ্যেস্য ছিল প্রয়াত লোকগীতির দিক্‌পাল কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য কে একবার গানে ফিরে দেখা, সেই মঞ্চে যেখানে তিনি ত্রিপুরায় শেষ বারের মতো তাঁর দোহার দল নিয়ে গাইতে এসে ছিলেন। হ্যাঁ সেই রবীন্দ্র ভবনের মঞ্চ যা আবার গত তিরিশে এপ্রিল তাঁর গান ও ভাবনায়  মেতে উঠেছিল। উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, “ভুবন মাঝি” ছবির পরিচালক ফাকরুল আরেফীন খান, অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ, সহ অভিনেতা মাজনুন মিজান, শুভাশিস ভৌমিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক মুন্নি সাহা, শিল্পী শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী ও সংগঠক হাসান আরিফ।

বিকেলের প্রথম পর্বের শুরুতে পরিবেশিত হয় কালিকাপ্রসাদের শেষ সিনেমার(সঙ্গীত পরিচালনা) সেই “তোমারি তোমারি নাম গাই…আমার নাম গাও তুমি” যা একদল যুবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়ে উঠেছিল সুন্দর সুরের মূর্ছনায়। এরপর একে একে স্মৃতি চারনা করেন সম্মানীয় অতিথিরা, প্রথমে মুন্নি সাহা তাঁর কালিকাপ্রসাদের সাথে না দেখা হওয়ার কথা, অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ তাঁর সেই ‘তোমারি নাম গাই’ টাকে হোয়াট্‌স-এপে পাঠানো,এমন নানান ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করেন। পরিচালক তাঁর কথার মাঝে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, এবং কালিকা ‘ভাই’এর  যে আপোশ না করার সত্তা, তা তুলে ধরেন। মাঝে শিল্পী শুভ প্রসাদ নন্দী তাঁর নিজের চোখে দেখা কালিকাপ্রসাদের বেড়ে ওঠার কথা, কী করে কালিকাপ্রসাদ রিকশাওয়ালা তুরফান আলী থেকে শুরু করে বর্তমান বাংলার অগ্রণী গবেষক সম্মানীয় শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের কাছে নিজের জ্ঞানের ঘরা পূর্ণ করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পী উপমা দাস ব্রহ্ম ও তাঁর দল লোকগীতি পরিবেশন করেন, ত্রিপুরা রাজ্যের শিল্পী অমর ঘোষ তাঁর ছাত্র দের নিয়ে কিছু কালিকাপ্রসাদের স্মরণে কিছু অসাধারন কম্পোজিশন পরিবেশন করেন । শেষে শুভ প্রসাদ নন্দী মাজুমদারের গান দিয়ে দ্বিতীয় পরব শেষ হয়।

অন্তিম পর্যায়ে দেখানো হয় ‘ভুবন মাঝি’ চলচ্চিত্রটি। এই সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উড়ানের শুভ্রজিত ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতই জানান দিল যে কালিকাপ্রসাদ হয়তো মাটির এ দেহে নেই, কিন্তু তিনি আছেন ,থাকবেন স্মৃতি হয়ে যত দিন বাংলা লোক গীতি থাকবে।

 

রাহুল রাজ চৌধুরী

রাহুল রাজ চৌধুরী

ত্রিপুরার রাহুল রাজ্ ভৌগোলিক ভাবেই এই বাংলা থেকে দূরে , মানসিক ভাবে সব বাঙালিইতো একই ভূখণ্ডের বাসিন্দা।

Facebook Comments