ন’টা পঁয়তাল্লিশের লোকাল ছুটছে,

রোজকার গতিতেই। ট্রেনের গতির কোনও আনন্দ-ফূর্তি নেই! কোনও উচ্ছ্বাস নেই! কোনও আলাদা শোকও নেই!

জানলার ধারের ছবিগুলো ছুটছে গতির সাথে তাল মিলিয়েই। এরমধ্যে ঝাঁ চকচকে তেমন কিছু চোখে পড়ে না। বরং উল্টো ছবিই নজর কাড়ে।

একখানা কারখানায় দুটো চোখ আটকে গেল। কারখানার কঙ্কালসার চেহারাটা দাঁত-কপাটি দেখিয়ে কেমন যেন ধুঁকছে। খুকখুকে একটা বারোমেসে কাশিতে পাঁজর ভরে আছে। চিমনির গা বেয়ে কোনও ধোঁয়া নেই। কিছু লতানো গাছ ঠেলে উপরে উঠেছে-জবরদখলের মতোই! কঙ্কালের ভিতরে এবং বাইরে কত বন্ধ হওয়া মেশিন! ওরা চলতে ভুলে গেছে! জং এখন ওদের পরম আত্মীয়!

হঠাৎ করেই ট্রেনটা চলতে শুরু করলো। আমি শুনতে পেলাম বহু ক্ষুধার্থ শ্রমিকের পদধ্বনী! শব্দ ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছিলো! খিদের চিৎকার ইতিহাসে লেখা হয় না! গতি বাড়লে সামনে দেখা যায় সবুজ মাঠ,কোথাও আবার শুক্নো গাছের মগডালে একটা কাক!

ইতিহাসের পাতা ঠেলে কড়া নাড়ছে আজ। পরের স্টেশনে নামতে হবে,সওয়ারীরা গা ঘেঁসে,ঠেঁসেঠুঁসে দাঁড়ায়। ঘামের গন্ধ মুছে ফেলে রুমালের সুগন্ধীরা। পরের স্টেশনে গাড়ি থামলে ওরা  নেমে যায় নিজ ঠিকানায়।

জয়িতা দে সরকার

জয়িতা দে সরকার

এখন আমার শহর- দুর্গাপুর।

ছোটবেলা কেটেছে বর্ধমানে।

পেশা এবং পেশায় :- লেখালিখি । কি লিখি জানি না, তবে লিখতে ভালো লাগে।

আমার লেখার প্রথম প্রকাশ কলেজের পত্রিকা। এরপর বহুবছর চুপচাপ আমার কলম..আবার দু’হাজার তেরো থেকে সোস্যাল মিডিয়ার হাত ধরে ফেরা…সেই থেকে চলছে । আপাতত কিছু লিটিল ম্যাগাজিন, এবং বাংলা ব্লগে লিখি । আমার কোনও বই নেই ।

Facebook Comments