[১লা এপ্রিল, মধ্যমগ্রামের “অল্টারনেটিভ লিভিং থিয়েটার(ALT)”এর আখড়ায় “একুশ শতক”এর “বুকঝিম এক ভালোবাসা” অভিনীত হলো। প্রসঙ্গত: এই প্রতিবেদক অর্থাৎ আমি, এই নাটকটি এই নিয়ে পঞ্চমবার দেখলাম, এবং ভবিষ্যতেও প্রতিটি উপস্থাপনায় উপস্থিত  থাকবো।]

______________________________

আমাদের সকলের মনের গোপনতম
কুঠুরিতে জমিয়ে রাখা আবেগ, আদর অনন্য রূপ পায় সৈয়দ শামসুল হকের লেখনীতে। এই নাটকটির মূল কাহিনীসূত্র ওনারই সৃষ্টি।
মনসুর বয়াতি আর চাঁদ সুলতানার এই অপ্রাপ্ত প্রেমগাথা, বাঁধা আছে ওদেরই পদে, ওদেরই সুরে।
“এমন সংসারে কন্যা ভালোবাসা নাই,
সত্যি বলি শোনো শোনো চাঁদ সুলতানা”
“কুসুমও অন্তর ধরে মানুষের মত”, তাই ভালোবাসায় কুসুম ফোটে, মৃত্যুতে ঝরে যায়; এই সমস্ত সত্যিকথা শোনায় আবুলের কন্ঠস্বর, “স্বরও তো সহোদর বটে”।
ব্রহ্মপুত্রের জলে ভেসে যায় সময়, সুর, সৃষ্টিকর্তা আর ভাসে পূর্ণিমার মরদেহ; অমর হয়ে যায় শিল্প, স্মরণীয় হয় গান।
“পানি যায় ভেসে যায়,
দূরে যায় দরিয়ায়…”
______________________________
আপনি এই নাটকের পোস্টারে কিংবা টিকিটে দেখতে পাবেন লেখা আছে শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম, তিনি এই নাটকের নির্দেশক এবং একক অভিনেতা।
কিন্তু নাটক শুরু হওয়ার পর আপনি দেখবেন শুধু আবুল বয়াতিকে, যে মনকেমন করে দেওয়া ভালোবাসার গল্প শোনাচ্ছে।
বুকঝিম করে দেওয়া এক প্রেমের আখ্যান বর্ণনা করছে বাংলাদেশের এক বয়াতি, গোটা মঞ্চের কোথাও শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়কে পাবেননা আপনি, আপনার মনে ধাঁধা লেগে যাবে; এতটাই সহজাত এবং সুচারু এই উপস্থাপনা। বয়াতির গল্পে একে একে ঢুকে পড়বে সমস্ত চরিত্র, শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়ের দেহাধারেই তারা প্রত্যেকে সুস্পষ্টভাবে বৰ্তমান। সঙ্গে বয়াতির দোহাররাও নিজ নিজ প্রতিভায় অসামান্য।
একবার অন্তত গিয়ে দেখে আসুন, এই মহাকাব্যিক নাট্যভাবনা, যা আপনগুণে অসাধারণ। এমন সোঁদামাটির গন্ধ বাংলার খুব কম নাটকে পাওয়া যায়!
______________________________
“মানুষের অন্তর ভরে আছে যে বিষে,
সেই বিষ ক্ষয় হবে বারিতাল্লা কিসে?”
মনসুরের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবেন? আমি পারিনি, এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছি, মনসুরও খুঁজছে, এবং কষ্ট পাচ্ছে ভীষণ; কারণ
“মানুষ সৃষ্টি করেছেন আল্লা, একমাপে একভাবে-
মানুষের এমন কুমতি, মানুষ তা খণ্ডাবে!”
______________________________
*এই নাটকের পরবর্তী পরিবেশনা, ৮ই মে ২০১৭, শিশির মঞ্চ, সন্ধ্যে ছটা*

রোহিত দে

রোহিত দে

“আমি কে?”
উন্নয়নের অংশীদার
আমি প্রগতিশীল বেকার!
টিপিকাল দুষ্টু ছেলে, বাচ্চাবেলায় যাদের সাথে মিশতে মা-বাবা বারণ করেন!
সঙ্গে একটু দু-একলাইন কবিতা লিখে সমাজ বদলানোর ঝুটো ধারণাও পোষণ করি!
মোদ্দা কথা হাইলি সাসপিশাস!
Facebook Comments