চিত্রগ্রাহক : শুভশ্রী দাস

মরমিয়া প্রযোজিত  নাটক লাভ সেক্স অউর  ধোঁকা  সামগ্রিক ভাবেই এই সময়ের নাটক। থিয়েটার বাংলার উজ্জ্বল ঐতিহ্য। যার পথ চলা বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে।  বাংলা থিয়েটারের যে উজ্জ্বল উত্তরাধিকার আমরা বহন করি সেই শিক্ষা আমাদের আধুনিক হতে শেখায়।  প্রতিবাদী হতে শেখায়।  সেই প্রতিবাদ কোনো শেখানো বুলি আওড়ানোর শখ নয়। সেই প্রতিবাদ অন্তরের আগুনে শরীর ঝলসে নেওয়া। প্রতিবাদের ভাষা নাটকের ভাষা হয়েছে বহুকাল। মরমিয়ার এই নাটক প্রতিবাদী , নিয়ম ভাঙার , সামাজিক নিয়মের আগল ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসার নাটক। নাটকের ভাষা , মঞ্চ  ভাবনা , প্রয়োগ সবেতেই এ নাটক সোজাসুজি এই সময়ের কথা বলেছে। আধুনিক প্রকাশ ভঙ্গিতে , যে ভঙ্গি দেখে স্বভাব সাবধানীরা নাক কুঁচকোতেই পারেন , কিন্তু এ নাটক সেই আধুনিক প্রকাশ মাধ্যমে শিল্পের সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছে।

  নাটকের মূল দুটি চরিত্র  , যারা লিভ ইন করে।  সিনেমার ছাত্র ছাত্রী।  তাই আলোচনার ফাঁকে স্বাভাবিক ভাবেই না না সিনেমার অনুষঙ্গ আসে। আসে তাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনের কথা।  যন্ত্রণার কথা। আর হৃদয়ের আগল থেকে যখন বনি ( সে অর্থে নাটকের নায়িকা যে ) তার সামাজিক নিয়মের কারাগার ঠেলে , হেজিমনি ঠেলে , দম  বন্ধ করা শৈশব নিধন পর্ব ঠেলে বড় হবার কথা বলে তখন সংলাপ আসে আগ্নেয়গিরির লাভার  মত সহজাত ভঙ্গিমায়।  কোনো নাটুকেপনা এ নাটককে কলুষিত করেনি।  এ নাটককে স্পর্শ করেনি পলিটিকালি কারেক্ট থাকবার অকেজো ভঙ্গি। আমার মনে হয়েছে এখানেই এ নাটকের সার্থকতা।
নাটকের স্বাভাবিক চলন বেয়ে আরো গল্প এসেছে , এসেছে জীবনের আঁকা  বাঁকাপথ। নাটক পথ হারায় নি। দর্শককে নাড়া দিয়েছে। ভালো লেগেছে অভিনেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়। মঞ্চভাবনা থেকে পরিবেশনা নাটকের চলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে ঝর্ণার  মত। মরমিয়া কে অভিনন্দন জানাতেই হয় এমন প্রযোজনার জন্য।
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়

মানস বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রধান সম্পাদক , আসমানিয়া

প্রথম জীবনে নিউজ চ্যানেলের ক্রাইম রিপোর্টার। পরবর্তীতে আসমানিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরেই লেখালিখি করেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়।

Facebook Comments