রাত  শেষ হয়ে আসে। শহরের গায়ে  আরামের চাদর বিছিয়ে ঘুম। শব্দহীন শহরের ফুটপাথে মশারি খাটানো। হিমের বিষাক্ত কামড় এড়াতে মরিয়া মানুষের আগুন পোহানোর স্মৃতি বুকে ইতি উতি ধিকি ধিকি আগুন জ্বলছে। কুয়াশার আস্তরণ ঠেলে শেষ রাতের শুকতারা তার চিরন্তন উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। এভাবেই একটার পর একটা কষ্টের রাত  পেরিয়ে শহর জেগে ওঠে অপেক্ষার আগুন জ্বেলে। কোনও  এক সকালে হালকা স্বরে কোকিলের কুহু গেয়ে ওঠে। মনকে আনমনা করে উত্তুরে হিমেল হাওয়া কে বিপ্লবী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়  দখিনা হাওয়া। এতো যুগ  যুগান্তের গল্পো। আশৈশব জীবনের গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলার প্রতিটি মুহূর্তই অপেক্ষা। ‘সে আসিবে আমার মনও বলে’ . সত্যিই তো আসে। অপেক্ষার আলোকবর্ষ পেরিয়ে একদিন সত্যিই স্বপ্নের আলিঙ্গন করে।

 ক্যালেন্ডারের পাতা মিলিয়ে তো আর জীবন চলে না। মে জুন মাসের আগুনে পুড়তে পুড়তে মন তো অপেক্ষাই করে। একটা বিপ্লবী বিকেল।আকাশ কালো করে আসা স্বপ্ন। শরীরের প্রতিটি রোমকূপকে বৃষ্টির জলে ভিজিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। শহরের জলছবি জুড়ে স্বস্তির অভ্যুথান। আকাশের এ প্রান্ত ও প্রান্ত জ্বলে ওঠে বিদ্যুৎ চমকে। মনের মাঝে যুদ্ধ জয়ের আনন্দ। জাপ্টে ধরতে ইচ্ছে করে চির স্রোতস্বীনি বর্ষাকে। বসন্তের আগমনে সেই আচমকা চমক নেই , আছে ধীরে ধীরে মনের সবটুকু দখল করে নেবার আগ্রাসন। যে সর্বনাশের আশায় মনের সবটুকু নিয়ে বসে থাকা জানলা খুললে সেই সর্বনাশের বার্তা আনে ফাল্গুন।

সাত বছর আগের এমনই  এক বসন্ত বাতাসে সর্বনাশের নেশায় মেতে উঠেছিলাম। যুক্তি তর্কের আগল ঠেলে একটি পত্রিকা জন্ম নিয়েছিল। ওয়েবের আকাশে তখনও  এত তারকা সমাবেশ হয় নি। আমার জীবনের তখন আগুনখেকো সময়। কিছু অসম্ভব প্রতিভাবান বন্ধু সাথ  দিয়েছিল। আসমানিয়ার মাধ্যমে আমি , আমার বন্ধুরা , পরবর্তী কালে যুক্ত স্বপ্ন মাখা কিশোর কিশোরীরা , তরুণ তরুণীরা নিছক পত্রিকা প্রকাশের উন্মাদনা নয় , আজন্ম লালিত স্বপ্নকে এঁকে  দিয়েছিলো ওয়েবের পাতায়। আসমানিয়ার  থেকে ভালো , আরো নিয়মিত , আরো সুনামযুক্ত লেখক লেখিকার লেখায় সমৃদ্ধ  পত্রিকা ওয়েবের পাতায় সে যুগে আরো অন্তত শতাধিক ছিল , আজ সেই সংখ্যা পাঁচশো হবে বলে বিশ্বাস। সেই সংখ্যাতত্ব আসমানিয়ানরা ফুৎকারে ওড়ায়। আসমানিয়া আজও পেশাগত পত্রিকা নয়। বসন্তের মন কেমন বিষাক্ত হাওয়ায় আসমানিয়া  জন্ম নেয়। আই টি সেক্টরের ব্যস্ত দুপুরে তরুণীর কাজে মন নেই। পাশের ল্যাপটপেও কাজ এগোচ্ছে না। দুজনের মোবাইলে আসমানিয়া  খোলা। দুটো চোখ মিলে  যেতে পারে ,মিলে  যেতে পারে ডজন ডজন মন। সেই সর্বনাশের শরিক থাকুক আসমনিয়া।
রাত  জাগা ক্লান্ত চোখগুলো কি আবার  জলে চিক চিক করে উঠবে ! হ্যাঁ  বন্ধুরা এতক্ষন যে লেখাটি পড়ছেন সেটি একটি পত্রিকার সম্পাদকীয়। মাঝখানে কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর আবার আসিল আসমানিয়া। আমার এই লেখা আবার যুদ্ধ ঘোষণা করুক নাগরিক আস্তাকুঁড়কে। প্রিয় পাঠক পাঠিকারা আপনাদের অকারণ প্রশ্রয় ও আশ্রয়ে আবারো নষ্ট হতে চাই।
নতমস্তকে
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়
Facebook Comments