রাত পোহালেই নতুন বছর। বাঙালির তর সইছে না। মোবাইলে ঘন ঘন বাজছে শুভ নববর্ষ। গবেষকেরা বলেন এক সময়ে আমাদের বছর শুরু হত এখন যে সময় দূর্গা পুজো হয় সেই সময়। পুজোয় নতুন জামা জুতো দেবার রেয়াজ সেই সময় থেকেই। আবার পৌষ সংক্রান্তি পেরিয়ে মাঘের শুরু তেও একসময় বছরের শুরুয়াদ হত। সব্বাইকে হটিয়ে বৈশাখের জাকপট পাবার গল্প বেশ মজাদার। বাংলা সনের প্রবক্তা শশাঙ্ক কিনা তা নিয়ে বিতর্ক বিস্তর। কিন্তু আকবরের আমলেই যে এই বঙ্গাব্দ নামক তারিখনামার সে অর্থে ব্যাটিং শুরু তা প্রায় সবাই মানেন। বাংলায় চিরকালই বছরের হিসেব হত সৌর মাসের হিসেবে। বহু আগে সৌর সিদ্ধান্ত নামক একটি গ্রন্থ ও ছিল। সম্রাট আকবরের আমল তখন। ইসলামী ক্যালেন্ডার চলে চাঁদের চাল চলন দেখে। এখন এত ভারী মুশকিল। দুই সিস্টেমের মিশেলে যা হয় সব হিসেব গুলিয়ে যেতে লাগলো। যে সে হিসেব নয় সম্রাট কে কর দেবার হিসেব। চাষবাসের সময়ের সাথে কর দেবার সময় মিলছে না। সম্রাট পড়লেন মহা ফ্যাসাদে।
ভাবুন সেই কত্ত বছর আগে। রাজা ভাবলেন এত মহা মুস্কিল। কর মিলছে না। বাংলার গরিব চাষী ভাবলো এত বিপদ ভারি। সম্রাট আকবর আমির ফতেউল্লা সিরাজী কে দায়িত্ব দিলেন নতুন সন গণনার। তিনি সে সময়ের সেরা জ্যোতির্বিদদের একজন। তিনি মেলালেন , দায়িত্ব নিয়ে সব মেলালেন। পয়লা বৈশাখ আমি আপনি শখের বাঙালি সেজে প্রচুর প্রাদেশিক বুলি আওড়াতে পারি ঠিকএ। কিন্তু এই বাংলা ক্যালেন্ডার সব অর্থেই জাতীয়। আশ্চর্য এই কালেন্দারে সৌর মাস আর চন্দ্র মাস দিব্বি মিলে গেল। মিলে গেল চাষীর চাষবাসের সাথে সম্রাটের কর দানের সময়। প্রথম কোনো ক্যালেন্ডারে ইসলামী ক্যালেন্ডার ভাবনার সাথে হিন্দু ভাবনা মিলে গেল। সূর্য আর চাঁদের বন্ধুত্ব তো হলই। মাসের নামগুলো হলো আবার সংস্কৃত ভাষায় আকাশের গ্রহ নক্ষত্রের হিসেব মনে রেখে । আবার রাজা শুধু প্রজার সুবিধার কথা ভেবে প্রথম আস্ত একটা ক্যালেন্ডার বানিয়ে ফেললেন। এমন নজির কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। এবার নতুন সেই ক্যালেন্ডার চালু হলো ১৫৮৪ সালে। যদিও আকবরের সিংহাসনে বসার সাল অর্থাৎ ১৫৫৬ সালকেই এই বঙ্গাব্দ প্রচলনের সময় হিসেবে ধরা হলো। এখন সেই ১৫৫৬ খিস্টাব্দ ছিল ইসলাম ক্যালেন্ডারের ৯৬৩ সাল। মিলিয়ে দিলেন তারা। অর্থাৎ ১৫৫৬ খিস্টাব্দ হলো বাংলার ৯৬৩ বঙ্গাব্দ। তারপর থেকে বঙ্গাব্দ চলল নিজের গতিতে। এখন ইসলামী ক্যালেন্ডারের ৯৬৩ সালের প্রথম মাস অর্থাৎ মহরম ছিল সে বছর বাংলা ক্যালেন্ডারের বৈশাখ মাস। সবাই ঠিক করলেন তাহলে বৈশাখই হোক বছরের প্রথম । আর তাই সবাইকে টপকে বৈশাখ হলো বঙ্গাব্দের প্রথম মাস।
তাই ১ লা বৈশাখ ঘর বন্ধ করে বাঙালি সাজার দিন নয়। বরং সব বিভেদ ভুলে সব সংস্কৃতি , সব ভাবনাকে বুকে টানার দিন। বঙ্গাব্দ শুধুই মেলাতে শেখায়।
#janamanas
Facebook Comments